দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে নিম্নে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ঘনীভূত হয়ে এটি আগামী সোমবারের (২৬ অক্টোবর) মধ্যেই একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ঝড়ের মূল লক্ষ্য ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল হলেও এর প্রভাবে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে থাকা এই আবহাওয়া ব্যবস্থাটি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে। নিয়ম অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরে তৈরি এই ঝড়ের নাম হবে ‘অর্ণব’। তবে আরব সাগরে থাকা অপর লঘুচাপটি যদি এর আগেই ঘনীভূত হয়ে ঝড়ে রূপ নেয়, তবে ‘অর্ণব’ নামটি সেখানেই যুক্ত হবে। ‘অর্ণব’ নামটি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত, যার অর্থ ‘সমুদ্র’।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঝড়ের রূপ নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি সরাসরি বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা কিছুটা কম হলেও অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে ধাবিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। তবুও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে এর প্রভাব পড়ার ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আবহাওয়া অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। এর পরদিন অর্থাৎ ২৯ অক্টোবর থেকে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগেও গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ অনুমোদিত বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO) আওতাভুক্ত ১৩টি দেশ পর্যায়ক্রমে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের ঝড়ের নাম দিয়ে থাকে। সমুদ্রের দুটি ভিন্ন স্থানে একই সঙ্গে একাধিক ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে যাতে সহজেই শনাক্ত করা যায়, সে কারণেই এই নামকরণের নিয়ম চালু রয়েছে। 'অর্ণব'-এর পরবর্তী ঝড়ের নামটি দেওয়া রয়েছে ভারতের, যার নাম ‘মুরাসু’ (যার অর্থ ঐতিহ্যবাহী ঢোল বা ডঙ্কা)।
কে